ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

জবির আবাসন সংকট নিরসনে ৭ একর জমিতে ১৬০০ আসনের দাবি

শিরোনাম (৫টি)জবির আবাসন সংকট সমাধানে ৭ একর জমিতে হল নির্মাণের দাবি ২০২৬ সালের মধ্যে ১৬০০ শিক্ষার্থীর আবাসন চায় জকসু বৃত্তির বাকি ৪৬ কোটি টাকা দাবিতে জবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন আবাসন সংকট নিরসনে জবি প্রশাসনকে জকসুর আল্টিমেটাম কেরানীগঞ্জের জমিতে দ্রুত অস্থায়ী আবাসন চায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাজবির আবাসন সংকট নিরসনে ৭ একর জমিতে ১৬০০ আসনের দাবিজগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট নিরসন এবং বিশেষ বৃত্তির বকেয়া অর্থ দ্রুত হস্তান্তরের দাবিতে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।মানববন্ধনে জকসুর নেতারা দাবি জানান, কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ ৭ একর জমিতে ২০২৬ সালের মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি আবাসন বৃত্তির বাকি অর্থ দ্রুত শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।জকসুর পক্ষ থেকে বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বড় সমস্যা হলো আবাসন সংকট। পর্যাপ্ত আবাসিক সুবিধা না থাকায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে পুরান ঢাকার বিভিন্ন মেস ও ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। এতে তাদের অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ সিয়াম বলেন, নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য শুরু থেকেই আবাসন ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নানা সমস্যার মধ্যে শিক্ষার্থীদের থাকতে হচ্ছে। তাই দ্রুত অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও আবাসন নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের মধ্যে কেরানীগঞ্জের ৭ একর জমিতে ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা করতে হবে।তিনি আরও বলেন, আবাসন বৃত্তির জন্য বরাদ্দ ৫৬ কোটি টাকার মধ্যে বাকি ৪৬ কোটি টাকা দ্রুত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে।জকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, শিক্ষার্থীদের মৌলিক দাবিগুলো পূরণ করা সম্ভব হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দেওয়া হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, আবাসন সংকট নিয়ে আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।তিনি বলেন, অর্থ পাওয়ার পর প্রশাসন চাইলে কয়েক মাসের মধ্যেই অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ করতে পারত। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।জকসুর এজিএস মাসুদ রানা বলেন, শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও প্রশাসনের গড়িমসির কারণে আবারও আন্দোলনে নামতে হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা কোনো স্বার্থ নয়, তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে।জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, আবাসন বৃত্তির জন্য ৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও বকেয়া অর্থ শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি। পাশাপাশি কেরানীগঞ্জের ৭ একর জমিতে অস্থায়ী আবাসন চালুর প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।তিনি আরও বলেন, স্থায়ী ভবন নির্মাণের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার অজুহাতে শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যার সমাধান বিলম্বিত করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ জমির পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত এবং দ্রুত আবাসন ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান তিনি।মানববন্ধন থেকে জকসুর নেতারা দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।

জবির আবাসন সংকট নিরসনে ৭ একর জমিতে ১৬০০ আসনের দাবি