প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বুধবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামীকাল ১ অক্টোবর দেশে ও বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনায় নতুন ভাবনা’ (The Age of Longevity: Rethinking Systems for Longer Lives)। জাতিসংঘের ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসেরও একই প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে।বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবার উন্নতির ফলে বিশ্বজুড়ে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। দীর্ঘায়ু একদিকে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, অন্যদিকে দীর্ঘ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা এবং পারিবারিক সহায়তার কাঠামোকে সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করছে।তিনি বলেন, প্রবীণদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকার সচেতন রয়েছে। একটি কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য সামনে রেখে প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী জানান, জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি প্রবীণদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করা, বয়স্ক ভাতার আওতা বাড়ানো এবং সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির আলোকে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। প্রবীণদের অবহেলার পরিবর্তে তাঁদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখা এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি উপকারভোগীর সংখ্যাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিস্তার এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করার কাজও এগিয়ে চলছে।প্রধানমন্ত্রী প্রবীণ নাগরিকদের পরিবার ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তাঁদের অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাঁর মতে, প্রবীণদের দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার ওপর দাঁড়িয়েই বর্তমান সমাজ ও রাষ্ট্রের অনেক কাঠামো গড়ে উঠেছে।তিনি বলেন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—তিন পর্যায়েই প্রবীণদের প্রতি সম্মান, সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা প্রয়োজন। তাঁদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে দেশের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ বজায় রাখার মাধ্যমে প্রবীণদের প্রতি যত্ন, সম্মান ও মর্যাদার পরিবেশ আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে দেশের সব প্রবীণ নাগরিকের প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে তরুণ ও প্রবীণ—সব বয়সের মানুষ নিজেদের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও পরিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারেন।বাণীর শেষে তিনি ২০২৬ সালের ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।