ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও উৎপাদন ব্যয় কমাতে গুরুত্ব সরকারের: প্রধানমন্ত্রী

কৃষকের উন্নয়ন ছাড়া বাংলাদেশের সামগ্রিক অগ্রগতি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কৃষিকে আধুনিক, লাভজনক ও জলবায়ু সহনশীল খাতে পরিণত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) থেকে শুরু হতে যাওয়া ‘১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬’ উপলক্ষে বুধবার (৪ নভেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।তারেক রহমান বলেন, একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প নেই। কৃষকের প্রচলিত অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের সঙ্গে নতুন প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে হবে।তাঁর মতে, সনাতন কৃষিপদ্ধতি ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ, কর্মসংস্থান ও টেকসই উন্নয়নে কৃষক ও কৃষি খাতের অবদান অপরিসীম।এ কারণে কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর ও লাভজনক করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষম করে গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের কাছে আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।একই সঙ্গে কৃষিভিত্তিক শিল্পের সম্প্রসারণ এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।সরকারের কৃষি খাতের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ সহায়তা সম্প্রসারণের উদ্যোগ রয়েছে।পাশাপাশি কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি বিমা এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও বিপণনের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে কৃষক তাঁর শ্রমের ন্যায্য প্রতিদান পাবেন এবং কৃষিকাজ আরও লাভজনক হয়ে উঠবে।এতে গ্রামীণ অর্থনীতি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।কৃষিতে নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও জোর দিয়েছেন তারেক রহমান।তিনি বলেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, কারিগরি দক্ষতা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের সঙ্গে তরুণদের যুক্ত করার মাধ্যমে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব।এ লক্ষ্যে তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন এবং কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে ১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬। তিন দিনের এই আয়োজন চলবে শনিবার (৭ নভেম্বর) পর্যন্ত।বগুড়ার পল্লি উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ারস অ্যান্ড এক্সিবিশন্স প্রাইভেট লিমিটেড যৌথভাবে মেলার আয়োজন করছে।মেলায় আধুনিক কৃষিযন্ত্র, উন্নত বীজ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি, শস্য সংরক্ষণব্যবস্থা, দুগ্ধ ও পোলট্রি উৎপাদনের সরঞ্জাম এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ কৃষির বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি প্রদর্শনের কথা রয়েছে।প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই আয়োজন কৃষি গবেষক, প্রযুক্তি উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা ও কৃষকদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে সহায়ক হবে।পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, নতুন বিনিয়োগ এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশেও মেলাটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করেন।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কৃষক ও কৃষির সমৃদ্ধির মাধ্যমেই সরকার একটি স্বনির্ভর, উৎপাদনশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়।তিনি আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলার সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও উৎপাদন ব্যয় কমাতে গুরুত্ব সরকারের: প্রধানমন্ত্রী