যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের লড়াই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত সপ্তাহ থেকে মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোতে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালাচ্ছে। পাল্টা ইরান উপসাগরীয় দেশের মার্কিন স্থাপনা ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে।গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সন্ত্রস্ত হয়ে মাসের মধ্যেই এর শর্তগুলো মানার অস্বীকৃতি দেন। শনিবার ইরানও এই অবস্থানে থাকা ঘোষণা করে এবং হুঁশিয়ারি দেয়, সামরিক হামলা দু-তিন দিন চালালে তারা সর্বাত্মক অভিযান শুরু করবে।ইরানের হরমোজগান প্রদেশে মার্কিন হামলায় তিনজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন, পাশাপাশি একটি সেতু এবং টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর তীব্র ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন ১১৬টি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।ইরান ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের মার্কিন সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তথ্য মতে, কুয়েতের একটি তেল স্থাপনা ও বিদ্যুৎকেন্দ্র আক্রান্ত হয়েছে, যার ফলে কয়েকটি ইউনিট বন্ধ রাখা হয়েছে।রয়টার্স জানায়, প্রায় তিন মাস পর ইরান শুক্রবার রাতে প্রথমবারের মতো সৌদি আরবের আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়।ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বারংবার সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করেছে যা প্রমাণ করে ট্রাম্পের স্বাক্ষর মূল্যহীন। তার সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ী হোঁচট দিয়ে বলেন, যদি এই ধরনের হামলা অল্পদিনের মধ্যে বন্ধ না হয়, তাহলে ইরান সর্বাত্মক অভিযান শুরু করবে।এদিকে, ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন হামলায় কমপক্ষে ৫০ জন নিহত ও ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। আরব পারস্পেকটিভস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা জেইদন আলকিনানি এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, সংঘাত ধীরে ধীরে বিস্তৃত যুদ্ধের দিকে যাচ্ছে এবং জাতিসংঘ বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক সংগঠন এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে না।এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নানা দেশসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হচ্ছে এবং যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেড়ে চলেছে।