আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্পের বিস্ফোরক বক্তব্য
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো নেতাদের সম্মেলনে একদিকে ঐক্যের বার্তা দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েকটি মন্তব্য জোটের ভেতরে নতুন অস্বস্তি তৈরি করেছে।রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প প্রথমে স্পেনকে ‘ভয়ংকর অংশীদার’ বলে আখ্যা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্পেন ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয়ে যথেষ্ট অংশ নিচ্ছে না। এমনকি স্পেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বন্ধ করার কথাও বলেন তিনি।[BANGVIEWS-POST:1449]ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে স্পেনের আপত্তি। এছাড়া ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে স্পেনের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ার বিষয়টিও ওয়াশিংটন-মাদ্রিদ সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়িয়েছে।তবে বৈঠকের পর ট্রাম্প সুর নরম করে বলেন, ন্যাটো নেতাদের মধ্যে ‘অনেক ভালোবাসা’ এবং ‘অনেক ঐক্য’ ছিল। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটেও দাবি করেন, জোট এখন আগের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ।সম্মেলনের ঘোষণায় ন্যাটো সদস্যরা জোটের আর্টিকেল ফাইভ বা যৌথ প্রতিরক্ষার প্রতি অটল প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের জন্য ইউক্রেনকে ৭০ বিলিয়ন ইউরো সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।ইউক্রেন ইস্যুতেও ট্রাম্প কিছুটা ইতিবাচক বার্তা দেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার বাড়তি বিমান হামলার মুখে ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স দিতে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করবে।অন্যদিকে ইরান নিয়েও কঠোর অবস্থান জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সমঝোতা কার্যত শেষ। হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা এবং তিনটি ট্যাংকারে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন সামরিক হামলা চালিয়েছে।[BANGVIEWS-POST:1448]গ্রিনল্যান্ড নিয়েও পুরোনো দাবি আবার সামনে আনেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্ট করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।সব মিলিয়ে আঙ্কারার ন্যাটো সম্মেলন একদিকে জোটের ঐক্য প্রদর্শনের মঞ্চ হলেও, অন্যদিকে ট্রাম্পের স্পেন, ইরান ও গ্রিনল্যান্ড-সংক্রান্ত বক্তব্য পশ্চিমা সামরিক জোটের ভেতরের মতপার্থক্যও প্রকাশ্যে এনেছে।
সূত্র: রয়টার্স