ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা মানবাধিকার রক্ষার অংশ: আইনমন্ত্রী
ন্যায়বিচারে মানুষের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা মানবাধিকার নিশ্চিত করারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষের কিছু সহজাত, অবিচ্ছেদ্য ও সর্বজনীন অধিকার রয়েছে। নাগরিকরা যেন এসব অধিকার নির্বিঘ্নে প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।শনিবার সকালে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে ব্র্যাক-সিডিএমে বিচারক, লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত ‘এক্সিলারেটিং ডিজিটাল লিগ্যাল এইড সার্ভিস ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের দুই দিনব্যাপী সমন্বয় সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।[BANGVIEWS-POST:3760]আইনমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার কেবল কোনো বিরোধ নিষ্পত্তি বা মধ্যস্থতার বিষয় নয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো নাগরিকদের মানবাধিকার সংরক্ষণ, সুরক্ষা ও নিশ্চিত করা। এমনকি গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রয়েছে এবং রাষ্ট্রকে সেই অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।বিচারকদের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিচারকদের শুধু আইনের বিধান বা কালো অক্ষরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। মামলার বাস্তব পরিস্থিতি, সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং ন্যায়বিচারের মূল উদ্দেশ্য বিবেচনায় নিয়ে আইনের ব্যাখ্যা করতে হবে। একই সঙ্গে বিচারিক কর্মকর্তাদের জনগণের সেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।দেশের বিচারব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে এই মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।[BANGVIEWS-POST:3759]তিনি বলেন, বিচারাধীন মামলার চাপ কমাতে লিগ্যাল এইড, মধ্যস্থতা, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং বিচারিক কার্যক্রমের সমন্বিত প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল লিগ্যাল এইড সেবা আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের সিনিয়র রুল অব ল, জাস্টিস অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার রোমানা শোয়েগার, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা।