বাংলাদেশে মানবাধিকার জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান ফলকার টুর্কের
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক বাংলাদেশের জন্য একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় তত্ত্বাবধান প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি করবে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিহত করবে।সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে কথা বলার সময় ফলকার টুর্ক এই আহ্বান জানান। পূর্বেও তিনি বারবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং তাদের তদারকির জন্য শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ঘটে যাওয়া বিক্ষোভের সময় গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস একটি তথ্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বাংলাদেশের মানবাধিকার উন্নয়নের জন্য ৪৪টি সুপারিশ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে একাধিক প্রস্তাব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্বাধীন তত্ত্বাবধান এবং গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে স্বাধীন তদন্ত পরিচালনার ব্যবস্থা গ্রহণ।প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে পর্যাপ্ত সম্পদদানের পাশাপাশি প্যারিস নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্বচ্ছ ও যোগ্যতাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি। ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানগত পর্যায়ের জরুরি সংস্কারের পাশাপাশি বেসামরিক তত্ত্বাবধান ও জবাবদিহিতা জোরদার করাও মূল্যবান সুপারিশের অন্তর্ভুক্ত ছিল।এদিকে, মানবাধিকার সংগঠন ও আইনবিশেষজ্ঞরা সম্প্রতি প্রণীত গুমবিরোধী আইন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত আইন আন্তর্জাতিক মান পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।