নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার আরও সহযোগিতা চেয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে বিদেশে দক্ষ কর্মী পাঠানো, অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ এবং অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় যৌথ উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।রোববার ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আইওএমের অপারেশনস বিভাগের উপমহাপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলস। বৈঠকে আইওএমের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ইওরি কাতো, ডিডিজির বিশেষ উপদেষ্টা প্রিয়া মারওয়াহ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।বৈঠকে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও মানবিক অগ্রাধিকারে আইওএম দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে সংস্থাটির ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।[BANGVIEWS-POST:3019]তিনি জানান, গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর মাইগ্রেশনের চ্যাম্পিয়ন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয় কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে এর লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে সমন্বিত কাঠামো গড়ে তুলতে চায়।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ এবং নৈতিক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আইওএমের সহায়তা চান। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ারগিভিং ও কৃষিখাতে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তিকে বৈশ্বিক শ্রমবাজারের সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ গড়ে তুলতে আইওএমের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।নারী অভিবাসী কর্মীসহ বিদেশে থাকা সব বাংলাদেশির অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা সেবা সম্প্রসারণের কথাও বলেন শামা ওবায়েদ।সংকটকবলিত দেশ থেকে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের সরিয়ে আনা ও দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে আইওএমের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। নিরাপদ প্রত্যাবর্তন, টেকসই পুনর্বাসন, জলবায়ুজনিত অভিবাসন এবং মানবপাচার প্রতিরোধে যৌথ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানান।রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য আইওএমের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন। তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।[BANGVIEWS-POST:3020]উগোচি ড্যানিয়েলস বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের পক্ষে নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি অভিবাসন ও মানবিক অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।বৈঠক শেষে অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা, নিরাপদ অভিবাসন সম্প্রসারণ এবং মানবিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও আইওএমের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।