ঢাকা    রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা চাইল পাকিস্তান

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী ও অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ আর্থিক সহায়তা সুবিধা চেয়েছে পাকিস্তান। প্রস্তাবিত সুবিধাটির মেয়াদ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর হতে পারে।বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বুধবার (২২ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের কাছে ‘দ্বিপক্ষীয় বিনিময় স্থিতিশীলতা সহায়তা সুবিধা’ প্রতিষ্ঠার অনুরোধ জানিয়েছে। এটি সরাসরি অনুদান নয়; বরং ঋণ, ডলার বিনিময় ব্যবস্থা বা আর্থিক গ্যারান্টির মতো একটি সহায়ক কাঠামো হতে পারে।[BANGVIEWS-POST:2302]অনুমোদন পেলে এ সুবিধা পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানো, রুপির ওপর চাপ কমানো, ঋণ পরিশোধের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং বহুপক্ষীয় ঋণদাতাদের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সহায়তা করবে। তবে পাকিস্তান বা যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব জানিয়েছেন, মার্কিন অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তিনি আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে তৈরি হওয়া ঝুঁকিগুলো তুলে ধরেছেন।পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে দেশটির প্রবেশাধিকার সহজ করা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং সার্বভৌম ঋণমান উন্নয়নে মার্কিন সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। দুই দেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কৌশলগত প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহও পুনর্ব্যক্ত করেছে।ইরান সংঘাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক যোগাযোগ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ইসলামাবাদ বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।বর্তমানে পাকিস্তান ৭ বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটির আওতায় রয়েছে। এর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে দেশটি ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের পৃথক ঋণ সুবিধাও পেয়েছে।[BANGVIEWS-POST:2297]এর আগে ২০২৩ সালে খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে পাকিস্তান আইএমএফের কাছ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের স্ট্যান্ডবাই ঋণ গ্রহণ করে। বর্তমানে কর বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করছে দেশটি।যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’ থেকে এ ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়। মেক্সিকোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া ২০০২ সালে উরুগুয়ে এবং ২০২৫ সালে আর্জেন্টিনাকে একই ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছিল।সূত্র: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা চাইল পাকিস্তান