ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

দিল্লিতে মোদি ও অমিত শাহের ছবিযুক্ত রাবণের কুশপুত্তলিকা দাহ

ভারতে নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় ভোট চুরি, জাতীয় নির্বাচনে কারচুপি, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং লাগামহীন বেকারত্বের প্রতিবাদে বিজয়া দশমীর ঐতিহ্যবাহী ‘রাবণ দহন’ উৎসবকে প্রতীকী রাজনৈতিক বিক্ষোভে রূপ দিয়েছে কংগ্রেসের ছাত্রসংগঠন ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া (এনএসইউআই)। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নয়াদিল্লির রাইসিনা রোডে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ছবি যুক্ত করে রাবণের একটি বিশাল কুশপুত্তলিকা পোড়ান বিক্ষোভকারী নেতাকর্মীরা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ট্রিবিউন ইন্ডিয়া ও দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।‘আঙুল তো উঠেগি—রাবণ দহন’ শীর্ষক ব্যানারে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে ছাত্রনেতারা অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন মোদি সরকার দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করেছে এবং গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে সম্পূর্ণ অকার্যকর করে তুলেছে।রাবণের প্রতীকী এই দশ মাথার কুশপুত্তলিকাটিতে মোদি, অমিত শাহ ও সিইসি জ্ঞানেশ কুমার ছাড়াও ভারতের দুই শীর্ষ শিল্পপতি গৌতম আদানি ও মুকেশ আম্বানি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবত, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং বিজেপি নেতা দুষ্যন্ত গৌতমের মুখাবয়ব ব্যবহার করা হয়। আন্দোলনকারীরা জানান, বর্তমানে ভারতে গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও সামাজিক সম্প্রীতির ওপর আঘাত হানা বিভিন্ন ‘অশুভ শক্তির প্রতীক’ হিসেবে তাঁদের মুখ তুলে ধরা হয়েছে।বিক্ষোভের মাধ্যমে মূলত নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপি ও ভোট চুরি, সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, বেকারত্ব বৃদ্ধি, করপোরেটদের কাছে জাতীয় সম্পদের হস্তান্তর, উগ্র সাম্প্রদায়িকতা এবং দেশের সার্বভৌমত্ম বিপন্ন করার মতো নীতিগুলোর বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক আশ্রয় ও সুরক্ষা দেওয়ার জন্যও কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন আন্দোলনকারীরা।নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছে এনএসইউআই। সংগঠনটির জাতীয় গণমাধ্যম বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত রবি পাণ্ডে বলেন, বিজয়া দশমী যেমন অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভ ও ন্যায়ের বিজয়ের বার্তা দেয়, তেমনি এই রাবণ দহনের মাধ্যমে দেশে ভোট চুরি, প্রশ্নফাঁস, বেকারত্ব ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের প্রতিরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে। দিল্লি শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত অখিলেশ যাদব জানান, নির্বাচনী জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, সংবিধানের সুরক্ষা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।সূত্র: দ্য হিন্দু

দিল্লিতে মোদি ও অমিত শাহের ছবিযুক্ত রাবণের কুশপুত্তলিকা দাহ