অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে ফায়ার সার্ভিসের ১৩ নির্দেশনা
আসন্ন শুষ্ক মৌসুমে দেশজুড়ে অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং প্রযোজ্য অগ্নিনিরাপত্তাবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। অসাবধানতা, বৈদ্যুতিক ত্রুটি এবং অসচেতনতাই বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের প্রধান কারণ উল্লেখ করে সংস্থাটি জনস্বার্থে ১৩ দফা জরুরি প্রতিরোধমূলক নির্দেশনা জারি করেছে।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, অগ্নিদুর্ঘটনা থেকে জীবন ও সম্পদ সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর ও টেকসই উপায় হলো পূর্বপ্রতিরোধ। কার্যকর প্রস্তুতি ও সচেতনতাই পারে প্রাণহানি ও বিপুল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি শূন্যে নামিয়ে আনতে।অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে ফায়ার সার্ভিসের ১৩ দফা পরামর্শ:১. আইন প্রতিপালন: ‘অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩’ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করে প্রতিটি স্থাপনার অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।২. ভবনের সেফটি প্ল্যান: ভবন নির্মাণের শুরুতেই বাধ্যতামূলকভাবে ফায়ার সেফটি প্ল্যান অনুমোদন করাতে হবে এবং নকশার সব শর্ত বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে।৩. রান্নাঘরের সতর্কতা: রান্না শেষ হওয়া মাত্রই চুলা ও মূল গ্যাস সংযোগের নব ভালোভাবে বন্ধ করতে হবে। মুখে ফুঁ দিয়ে গ্যাসের চুলা নেভানোর বিপজ্জনক অভ্যাস পরিহার করতে হবে।৪. ধূমপানে সতর্কতা: জ্বলন্ত বিড়ি বা সিগারেটের অবশিষ্টাংশ পুরোপুরি নিভিয়ে কেবল নির্ধারিত ও নিরাপদ স্থানে ফেলতে হবে।৫. শিশুদের সুরক্ষা: শিশু-কিশোরদের দিয়াশলাই, লাইটার বা আগুনের যেকোনো উৎস নিয়ে খেলাধুলা করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত রাখতে হবে।৬. দাহ্যবস্তুর গুদাম: দাহ্য পদার্থের গুদামে কোনো অবস্থাতেই উন্মুক্ত বাতি বা মশার কয়েল জ্বালানো যাবে না। অন্যান্য ক্ষেত্রেও কয়েল ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।৭. বায়ু চলাচল নিশ্চিতকরণ: গ্যাসের চুলা জ্বালানোর আগে অবশ্যই রান্নাঘরের দরজা-জানালা খুলে কিছুক্ষণ বাতাস চলাচলের সুযোগ দিতে হবে। গ্যাস জমে থাকা অবস্থায় আগুন জ্বালানো অত্যন্ত প্রাণঘাতী।৮. বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা: নিয়মিত বিরতিতে ভবনের তার, সংযোগ, মেইন সুইচ ও যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ ওয়্যারিং বর্জন এবং অতিরিক্ত লোড এড়াতে হবে।৯. অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম: প্রতিটি বাসাবাড়ি, কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় মানসম্মত অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র (Fire Extinguisher) স্থাপন, সেগুলোর ব্যবহার জানা এবং নিয়মিত মহড়ার আয়োজন করতে হবে।১০. প্রশিক্ষণ গ্রহণ: ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রশিক্ষণ শাখা থেকে অগ্নিনির্বাপণ, উদ্ধারকাজ ও জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসাবিষয়ক মৌলিক প্রশিক্ষণ নেওয়া উচিত।১১. বন্ধ ঘরে প্রবেশের সতর্কতা: দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকা ফ্ল্যাট বা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের পরপরই দরজা-জানালা খুলে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ঢুকতে দিতে হবে। গ্যাসের গন্ধ পেলে ভুলেও কোনো বৈদ্যুতিক সুইচ স্পর্শ করা বা আগুন জ্বালানো যাবে না; নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে জরুরি সহায়তা চাইতে হবে।১২. জরুরি নম্বর সংরক্ষণ: নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশনের ফোন নম্বর সংরক্ষণ করতে হবে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে অবিলম্বে ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন ১০২ অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।১৩. হোটেল ও রেস্তোরাঁ: বাণিজ্যিক খাদ্য বিপণিবিতানগুলোতে এলপিজি সিলিন্ডার, ভারী গ্যাসের চুলা ও বৈদ্যুতিক লাইনের স্থায়িত্ব নিয়মিত প্রকৌশলী দিয়ে তদারকি করতে হবে।