ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে ফায়ার সার্ভিসের ১৩ নির্দেশনা

আসন্ন শুষ্ক মৌসুমে দেশজুড়ে অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং প্রযোজ্য অগ্নিনিরাপত্তাবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। অসাবধানতা, বৈদ্যুতিক ত্রুটি এবং অসচেতনতাই বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের প্রধান কারণ উল্লেখ করে সংস্থাটি জনস্বার্থে ১৩ দফা জরুরি প্রতিরোধমূলক নির্দেশনা জারি করেছে।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, অগ্নিদুর্ঘটনা থেকে জীবন ও সম্পদ সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর ও টেকসই উপায় হলো পূর্বপ্রতিরোধ। কার্যকর প্রস্তুতি ও সচেতনতাই পারে প্রাণহানি ও বিপুল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি শূন্যে নামিয়ে আনতে।অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে ফায়ার সার্ভিসের ১৩ দফা পরামর্শ:১. আইন প্রতিপালন: ‘অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩’ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করে প্রতিটি স্থাপনার অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।২. ভবনের সেফটি প্ল্যান: ভবন নির্মাণের শুরুতেই বাধ্যতামূলকভাবে ফায়ার সেফটি প্ল্যান অনুমোদন করাতে হবে এবং নকশার সব শর্ত বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে।৩. রান্নাঘরের সতর্কতা: রান্না শেষ হওয়া মাত্রই চুলা ও মূল গ্যাস সংযোগের নব ভালোভাবে বন্ধ করতে হবে। মুখে ফুঁ দিয়ে গ্যাসের চুলা নেভানোর বিপজ্জনক অভ্যাস পরিহার করতে হবে।৪. ধূমপানে সতর্কতা: জ্বলন্ত বিড়ি বা সিগারেটের অবশিষ্টাংশ পুরোপুরি নিভিয়ে কেবল নির্ধারিত ও নিরাপদ স্থানে ফেলতে হবে।৫. শিশুদের সুরক্ষা: শিশু-কিশোরদের দিয়াশলাই, লাইটার বা আগুনের যেকোনো উৎস নিয়ে খেলাধুলা করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত রাখতে হবে।৬. দাহ্যবস্তুর গুদাম: দাহ্য পদার্থের গুদামে কোনো অবস্থাতেই উন্মুক্ত বাতি বা মশার কয়েল জ্বালানো যাবে না। অন্যান্য ক্ষেত্রেও কয়েল ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।৭. বায়ু চলাচল নিশ্চিতকরণ: গ্যাসের চুলা জ্বালানোর আগে অবশ্যই রান্নাঘরের দরজা-জানালা খুলে কিছুক্ষণ বাতাস চলাচলের সুযোগ দিতে হবে। গ্যাস জমে থাকা অবস্থায় আগুন জ্বালানো অত্যন্ত প্রাণঘাতী।৮. বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা: নিয়মিত বিরতিতে ভবনের তার, সংযোগ, মেইন সুইচ ও যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ ওয়্যারিং বর্জন এবং অতিরিক্ত লোড এড়াতে হবে।৯. অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম: প্রতিটি বাসাবাড়ি, কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় মানসম্মত অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র (Fire Extinguisher) স্থাপন, সেগুলোর ব্যবহার জানা এবং নিয়মিত মহড়ার আয়োজন করতে হবে।১০. প্রশিক্ষণ গ্রহণ: ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রশিক্ষণ শাখা থেকে অগ্নিনির্বাপণ, উদ্ধারকাজ ও জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসাবিষয়ক মৌলিক প্রশিক্ষণ নেওয়া উচিত।১১. বন্ধ ঘরে প্রবেশের সতর্কতা: দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকা ফ্ল্যাট বা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের পরপরই দরজা-জানালা খুলে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ঢুকতে দিতে হবে। গ্যাসের গন্ধ পেলে ভুলেও কোনো বৈদ্যুতিক সুইচ স্পর্শ করা বা আগুন জ্বালানো যাবে না; নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে জরুরি সহায়তা চাইতে হবে।১২. জরুরি নম্বর সংরক্ষণ: নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশনের ফোন নম্বর সংরক্ষণ করতে হবে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে অবিলম্বে ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন ১০২ অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।১৩. হোটেল ও রেস্তোরাঁ: বাণিজ্যিক খাদ্য বিপণিবিতানগুলোতে এলপিজি সিলিন্ডার, ভারী গ্যাসের চুলা ও বৈদ্যুতিক লাইনের স্থায়িত্ব নিয়মিত প্রকৌশলী দিয়ে তদারকি করতে হবে।

অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে ফায়ার সার্ভিসের ১৩ নির্দেশনা