ঢাকা ০৫:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট: শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 22

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ফুসফুসে পানি জমে যাওয়ায় শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তাকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরেই নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এই গুণী সাহিত্যিক। ২০০৬ সালে ব্রেইন স্ট্রোকের পর তাঁর ডান পা অবশ হয়ে যায়। এরপর হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় তিনি আক্রান্ত ছিলেন।

১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সুকুমার বড়ুয়া। ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হলেও লেখালেখিই ছিল তাঁর আসল পরিচয়। ১৯৬৩ সালে তোপখানা রোডে একটি ছোট ঘর ভাড়া নিয়ে তিনি নিয়মিত সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টোর কিপার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৯৯ সালে অবসরে যান।

প্রায় ছয় দশকের সাহিত্যজীবনে শিশু ও কিশোরদের জন্য লেখা ছড়ায় তিনি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন। ব্যঙ্গ, হাস্যরস, নৈতিক শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সামাজিক বাস্তবতা তাঁর লেখার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ ছিল। এই দীর্ঘ সাহিত্য সাধনার কারণে তিনি ‘ছড়ারাজ’, ‘ছড়াশিল্পী’ ও ‘ছড়াসম্রাট’—এমন নানা বিশেষণে পরিচিতি লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— পাগলা ঘোড়া, ভিজে বেড়াল, চন্দনা রঞ্জনার ছড়া, এলোপাতাড়ি, নানা রঙের দিন, চিচিং ফাঁক, কিছু না কিছু, প্রিয় ছড়া শতক, নদীর খেলা, ছোটদের হাট, মজার পড়া ১০০ ছড়া, যুক্তবর্ণ, চন্দনার পাঠশালা এবং জীবনের ভেতরে বাইরে

ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। এ ছাড়া বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারসহ দেশ-বিদেশের বহু সাহিত্য পুরস্কার ও সম্মাননায় সম্মানিত হন এই বরেণ্য ছড়াকার।

সুকুমার বড়ুয়ার মৃত্যুতে সাহিত্যাঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক।

শেয়ার করুন

একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই

আপডেট: শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ফুসফুসে পানি জমে যাওয়ায় শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তাকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরেই নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এই গুণী সাহিত্যিক। ২০০৬ সালে ব্রেইন স্ট্রোকের পর তাঁর ডান পা অবশ হয়ে যায়। এরপর হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় তিনি আক্রান্ত ছিলেন।

১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সুকুমার বড়ুয়া। ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হলেও লেখালেখিই ছিল তাঁর আসল পরিচয়। ১৯৬৩ সালে তোপখানা রোডে একটি ছোট ঘর ভাড়া নিয়ে তিনি নিয়মিত সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টোর কিপার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৯৯ সালে অবসরে যান।

প্রায় ছয় দশকের সাহিত্যজীবনে শিশু ও কিশোরদের জন্য লেখা ছড়ায় তিনি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন। ব্যঙ্গ, হাস্যরস, নৈতিক শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সামাজিক বাস্তবতা তাঁর লেখার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ ছিল। এই দীর্ঘ সাহিত্য সাধনার কারণে তিনি ‘ছড়ারাজ’, ‘ছড়াশিল্পী’ ও ‘ছড়াসম্রাট’—এমন নানা বিশেষণে পরিচিতি লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— পাগলা ঘোড়া, ভিজে বেড়াল, চন্দনা রঞ্জনার ছড়া, এলোপাতাড়ি, নানা রঙের দিন, চিচিং ফাঁক, কিছু না কিছু, প্রিয় ছড়া শতক, নদীর খেলা, ছোটদের হাট, মজার পড়া ১০০ ছড়া, যুক্তবর্ণ, চন্দনার পাঠশালা এবং জীবনের ভেতরে বাইরে

ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। এ ছাড়া বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারসহ দেশ-বিদেশের বহু সাহিত্য পুরস্কার ও সম্মাননায় সম্মানিত হন এই বরেণ্য ছড়াকার।

সুকুমার বড়ুয়ার মৃত্যুতে সাহিত্যাঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক।