ঢাকা ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরিশালে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ, শয্যা সংকটে এক বেডে ৩ শিশু

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট: বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 33

বরিশালে নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিশুরা। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তীব্র শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। একাধিক ক্ষেত্রে একটি বেডে তিনজন শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ রোগী নিউমোনিয়া, জ্বর, ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বর্তমানে অন্তত তিনগুণ বেশি শিশু ভর্তি হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি বেডেই একাধিক রোগী। মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা আরজু বেগম বলেন, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় তার ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। অনেক কষ্টে একটি বেড পেলেও সেখানে আরও দুইজন শিশু রয়েছে। একই চিত্র পুরো ওয়ার্ডজুড়ে। একাধিক রোগীর স্বজন জানিয়েছেন, এক বেডে তিনজন করে রোগী রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, এতে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. নুরুল আলম বলেন, ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। শিশুদের গরম কাপড়ে রাখতে হবে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে এবং গরম পানি পান ও গরম পানি দিয়ে গোসল করানো যেতে পারে। এভাবে ঘরেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। তিনি আরও বলেন, রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা চাপ থাকলেও চিকিৎসাসেবায় কোনো ঘাটতি রাখা হচ্ছে না।

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক একেএম নাজমুল আহসান জানান, রোগীর সংখ্যা বেশি হলেও সবাইকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যেসব রোগী বেশি সংকটাপন্ন, তাদের বিশেষভাবে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা ৪১টি। কিন্তু বর্তমানে প্রতিদিন শতাধিক শিশু ভর্তি থাকছে, যাদের অধিকাংশই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। পাশাপাশি হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিশু। এতে করে পুরো শিশু বিভাগে চাপ আরও বেড়ে গেছে।

শেয়ার করুন

© ২০২৬ বাংলা ভিউজ কর্তৃক সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Technical Direction: Ubaidullah

বরিশালে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ, শয্যা সংকটে এক বেডে ৩ শিশু

আপডেট: বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

বরিশালে নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিশুরা। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তীব্র শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। একাধিক ক্ষেত্রে একটি বেডে তিনজন শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ রোগী নিউমোনিয়া, জ্বর, ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বর্তমানে অন্তত তিনগুণ বেশি শিশু ভর্তি হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি বেডেই একাধিক রোগী। মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা আরজু বেগম বলেন, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় তার ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। অনেক কষ্টে একটি বেড পেলেও সেখানে আরও দুইজন শিশু রয়েছে। একই চিত্র পুরো ওয়ার্ডজুড়ে। একাধিক রোগীর স্বজন জানিয়েছেন, এক বেডে তিনজন করে রোগী রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, এতে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. নুরুল আলম বলেন, ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। শিশুদের গরম কাপড়ে রাখতে হবে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে এবং গরম পানি পান ও গরম পানি দিয়ে গোসল করানো যেতে পারে। এভাবে ঘরেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। তিনি আরও বলেন, রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা চাপ থাকলেও চিকিৎসাসেবায় কোনো ঘাটতি রাখা হচ্ছে না।

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক একেএম নাজমুল আহসান জানান, রোগীর সংখ্যা বেশি হলেও সবাইকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যেসব রোগী বেশি সংকটাপন্ন, তাদের বিশেষভাবে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা ৪১টি। কিন্তু বর্তমানে প্রতিদিন শতাধিক শিশু ভর্তি থাকছে, যাদের অধিকাংশই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। পাশাপাশি হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিশু। এতে করে পুরো শিশু বিভাগে চাপ আরও বেড়ে গেছে।