ঢাকা ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফাঁসির মঞ্চ থেকে সংসদে তারা

বাংলা ভিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 14

একসময় তাদের সামনে ছিল মৃত্যুদণ্ডের শঙ্কা, দীর্ঘদিন কেটেছে কারাগারে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত হয়ে এবার তারা ফিরেছেন ভোটের মাঠে, আর সেখান থেকে উঠে এসেছেন সংসদে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর ও আবদুস সালাম পিন্টু এবং জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে। অনেকের মন্তব্য, ফাঁসির দণ্ডের ছায়া থেকে বেরিয়ে এবার সংসদে যাওয়ার পথ তৈরি হলো তাদের।

লুৎফুজ্জামান বাবরের বিষয়ে বলা হয়, ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলার ঘটনায় তার নাম আসে এবং ২০০৭ সালে তিনি গ্রেপ্তার হন। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি কারাগারে ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি মামলাগুলো থেকে খালাস পান এবং গত বছরের ১৬ জানুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পান। মুক্তির পর তিনি নেত্রকোনায় ফেরেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন। দাবি করা হচ্ছে, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এক লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে তিনি জয়ী হয়েছেন।

একই মামলায় আবদুস সালাম পিন্টুর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়। দীর্ঘ কারাভোগের পর ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিনি মুক্ত হন বলে বলা হচ্ছে। পরে জন্মস্থান টাঙ্গাইলে ফিরে গোপালপুর-ভূঞাপুর আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তিনি প্রায় দুই লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।

অন্যদিকে জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে জয়ী হয়েছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়। ২০১২ সাল থেকে তিনি কারাবন্দি ছিলেন এবং গত বছরের ২৮ মে কারাগার থেকে মুক্তি পান বলে জানা যায়। মুক্তির পর নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনিও বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

সব মিলিয়ে দীর্ঘ কারাবাস ও মৃত্যুদণ্ডের রায় বা সেই শঙ্কার পর ভোটের মাধ্যমে সংসদে জায়গা করে নেওয়ার ঘটনাকে অনেকে ‘নাটকীয় রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন’ হিসেবে দেখছেন।

শেয়ার করুন

ফাঁসির মঞ্চ থেকে সংসদে তারা

আপডেট: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

একসময় তাদের সামনে ছিল মৃত্যুদণ্ডের শঙ্কা, দীর্ঘদিন কেটেছে কারাগারে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত হয়ে এবার তারা ফিরেছেন ভোটের মাঠে, আর সেখান থেকে উঠে এসেছেন সংসদে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর ও আবদুস সালাম পিন্টু এবং জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে। অনেকের মন্তব্য, ফাঁসির দণ্ডের ছায়া থেকে বেরিয়ে এবার সংসদে যাওয়ার পথ তৈরি হলো তাদের।

লুৎফুজ্জামান বাবরের বিষয়ে বলা হয়, ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলার ঘটনায় তার নাম আসে এবং ২০০৭ সালে তিনি গ্রেপ্তার হন। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি কারাগারে ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি মামলাগুলো থেকে খালাস পান এবং গত বছরের ১৬ জানুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পান। মুক্তির পর তিনি নেত্রকোনায় ফেরেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন। দাবি করা হচ্ছে, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এক লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে তিনি জয়ী হয়েছেন।

একই মামলায় আবদুস সালাম পিন্টুর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়। দীর্ঘ কারাভোগের পর ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিনি মুক্ত হন বলে বলা হচ্ছে। পরে জন্মস্থান টাঙ্গাইলে ফিরে গোপালপুর-ভূঞাপুর আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তিনি প্রায় দুই লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।

অন্যদিকে জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে জয়ী হয়েছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়। ২০১২ সাল থেকে তিনি কারাবন্দি ছিলেন এবং গত বছরের ২৮ মে কারাগার থেকে মুক্তি পান বলে জানা যায়। মুক্তির পর নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনিও বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

সব মিলিয়ে দীর্ঘ কারাবাস ও মৃত্যুদণ্ডের রায় বা সেই শঙ্কার পর ভোটের মাধ্যমে সংসদে জায়গা করে নেওয়ার ঘটনাকে অনেকে ‘নাটকীয় রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন’ হিসেবে দেখছেন।