নির্বাচনে বড় চমক: পরাজিত একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী

- আপডেট: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 37
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চমক দেখিয়েছেন ভোটাররা। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, শক্ত সংগঠন আর পরিচিত মুখ—সবকিছুর পরও শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিতে পারেননি অনেক আলোচিত ও প্রভাবশালী প্রার্থী। বহুদিনের শক্ত ঘাঁটিতেও বদলে গেছে সমীকরণ। ফলে এবারের নির্বাচনকে অনেকেই দেখছেন ‘হেভিওয়েট’ পরাজয়ের নির্বাচনেরূপে।
খুলনা অঞ্চলে ছিল একাধিক চমক। খুলনা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার হেরে গেছেন বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগারের কাছে। অল্প ব্যবধানে এই পরাজয় হলেও শেষ পর্যন্ত জিততে পারেননি পরওয়ার। খুলনা-২ আসনে সাবেক এমপি ও নগর বিএনপির প্রভাবশালী নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জুকেও হারতে হয়েছে জামায়াতের শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালের কাছে। একইভাবে খুলনা-১ আসনে আলোচিত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন বিএনপির আমির এজাজ খানের কাছে। হিন্দু অধ্যুষিত এ আসনে কৃষ্ণ নন্দীর প্রার্থিতা দেশজুড়ে আলোচনা তৈরি করলেও ভোটের মাঠে সেই আলোচনা কাজে লাগেনি।
ঢাকা-১৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক পরাজিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজের কাছে। ভোটের ব্যবধান ছিল দুই হাজারের কিছু বেশি। বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬—দুই আসনেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম প্রত্যাশিত ফল করতে পারেননি। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের কাছে দুই আসনেই তিনি হেরে যান।
কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াত নেতা ড. হামিদুর রহমান আযাদ পরাজিত হয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদের কাছে। ব্যবধান ছিল উল্লেখযোগ্য। পঞ্চগড়-1 আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও শেষ পর্যন্ত জয় পাননি। বিএনপির নওশাদ জমির অল্প ব্যবধানে এগিয়ে থাকেন।
ঢাকা-১৬ আসনে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আব্দুল বাতেনের কাছে পরাজিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক। ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীকেও হারিয়ে জয় পান বিএনপির মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। একইভাবে ঢাকা-৯ আসনে আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা উল্লেখযোগ্য ভোট পেলেও বিজয়ী হতে পারেননি; সেখানে ধানের শীষের প্রার্থী এগিয়ে থাকেন।
বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না আলোচনায় থাকলেও ভোটে কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি। ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত রাশেদ খান তৃতীয় স্থানে থাকেন। রংপুর-৩ আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরও জয় তুলতে পারেননি; জামায়াতের প্রার্থী সেখানে বিজয়ী হন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ হারুনকে হারিয়ে জয় পান জামায়াতের নুরুল ইসলাম বুলবুল। নরসিংদী-২ আসনে এনসিপির গোলাম সারোয়ার তুষার পিছিয়ে থাকেন বিএনপির আবদুল মঈন খানের তুলনায়।
সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে ভোটাররা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—নাম, পরিচিতি বা পুরনো প্রভাবই শেষ কথা নয়। মাঠে সংগঠন, প্রচার আর ভোটারদের মন জয়ের সক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে ফলাফল। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত রেখে গেল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
























