ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সহিংস উপায়ে বিক্ষোভ দমন করলে ইরানে হস্তক্ষেপ করবে যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট: শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 6

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে—এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে যে কোনো সময় ইরানে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প জানান, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমন চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র তা উপেক্ষা করবে না। তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন গত তিন বছরের মধ্যে ইরানে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে।

অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ধীরে ধীরে সহিংস রূপ নিচ্ছে। টানা পঞ্চম দিনের মতো চলা আন্দোলনের মধ্যে বৃহস্পতিবার একাধিক শহরে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত সাতজন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে নতুন নতুন শহরেও আন্দোলন বিস্তৃত হচ্ছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, এই বিক্ষোভ ইরানি সরকারের দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে জনগণের জমে থাকা ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, ইরানি জনগণের এই আন্দোলন তাদের স্বাভাবিক অসন্তোষের প্রতিফলন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তেহরান সরকার কয়েক দশক ধরে অর্থনীতি, কৃষি, পানি ও বিদ্যুৎ খাত অবহেলা করেছে। অথচ সেই সময়ে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে সন্ত্রাসী প্রতিনিধিগোষ্ঠী ও পারমাণবিক কর্মসূচিতে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ইরানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও পুনরায় তুলে ধরা হয়।

সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী তেহরান ও ইসফাহান ছাড়াও লোরেস্তান, মাজানদারান, খুজেস্তান, হামাদান ও ফারসসহ অন্তত এক ডজন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় বিক্ষোভকারীদের শাসনব্যবস্থা ও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনীর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

চলমান এই পরিস্থিতি ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সূত্র: এএফপি, রয়টার্স।

শেয়ার করুন

সহিংস উপায়ে বিক্ষোভ দমন করলে ইরানে হস্তক্ষেপ করবে যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প

আপডেট: শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে—এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে যে কোনো সময় ইরানে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প জানান, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমন চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র তা উপেক্ষা করবে না। তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন গত তিন বছরের মধ্যে ইরানে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে।

অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ধীরে ধীরে সহিংস রূপ নিচ্ছে। টানা পঞ্চম দিনের মতো চলা আন্দোলনের মধ্যে বৃহস্পতিবার একাধিক শহরে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত সাতজন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে নতুন নতুন শহরেও আন্দোলন বিস্তৃত হচ্ছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, এই বিক্ষোভ ইরানি সরকারের দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে জনগণের জমে থাকা ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, ইরানি জনগণের এই আন্দোলন তাদের স্বাভাবিক অসন্তোষের প্রতিফলন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তেহরান সরকার কয়েক দশক ধরে অর্থনীতি, কৃষি, পানি ও বিদ্যুৎ খাত অবহেলা করেছে। অথচ সেই সময়ে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে সন্ত্রাসী প্রতিনিধিগোষ্ঠী ও পারমাণবিক কর্মসূচিতে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ইরানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও পুনরায় তুলে ধরা হয়।

সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী তেহরান ও ইসফাহান ছাড়াও লোরেস্তান, মাজানদারান, খুজেস্তান, হামাদান ও ফারসসহ অন্তত এক ডজন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় বিক্ষোভকারীদের শাসনব্যবস্থা ও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনীর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

চলমান এই পরিস্থিতি ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সূত্র: এএফপি, রয়টার্স।